বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার ফজিলা শরিফ বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় অফিস সহকারী, নিরাপত্তা প্রহরী ও আয়া এই তিনটি পদে কর্মচারী নিয়োগকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং প্রায় ছয় মাস পর কর্মচারীদের যোগদানকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, কর্মচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, চলতি জুলাই মাসের ১৯ তারিখে রবিবার ফজিলা শরিফ বালিকা দাখিল মাদরাসায় তিনজন কর্মচারী সংশ্লিষ্ট পদে যোগদান করেন। তবে প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারীর দাবি, গত জানুয়ারিতে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে এ বিষয়ে তারা আগে কিছুই জানতেন না।
প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক জোহা ও নৈশপ্রহরী শামছুল আলোকিত বগুড়াকে জানান, শুনেছি গত জানুয়ারিতে তিনটি পদে নিয়োগ হয়েছে। অথচ আমরা কেউই বিষয়টি জানতাম না। ছয় মাস পর কর্মচারীরা যোগদান করতে এলে বিষয়টি জানতে পারি। এটি কীভাবে সম্ভব, সেটি সুপার স্যার ভালো বলতে পারবেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নবনিযুক্ত নিরাপত্তা প্রহরী (পদে যোগদান ) ফিরোজ বলেন, গত ৯ জানুয়ারি উপজেলা পর্যায়ে ১১ জন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম। তার মধ্যে আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ১১ জানুয়ারি নিয়োগপত্র পাই। পরে নিয়োগপত্র নিয়ে যোগদান করি। তবে ছয় মাস পর যোগদানের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি আগেই যোগদান করেছি। পরে ছুটিতে ছিলাম।
নবনিযুক্ত আয়া নাজমা বেগম একই ধরনের বক্তব্য দেন।
তবে নব্য যোগদানকারী অফিস সহকারী ওই প্রতিষ্ঠানের সুপারের ছেলে হাদিসুর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি গোলাম রব্বানী জানান, তিনজন কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে পরিচালনা কমিটির সভায় রেজুলেশন করা হয়েছিল এবং তারা সেখানে স্বাক্ষর করেছেন।
শিক্ষক প্রতিনিধি রক্তিম বলেন, নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল এবং নিয়ম মেনেই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসা সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আলী আলোকিত বগুড়ার প্রতিবেদককে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তিনটি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিছু জটিলতার কারণে যোগদানে বিলম্ব হয়েছে।
তবে নিয়োগ সংক্রান্ত রেজুলেশন, যোগদানের কাগজপত্র ও পত্রিকার বিজ্ঞপ্তির কপি দেখতে চাইলে তিনি প্রথমে বলেন, ফাইল বাড়িতে রয়েছে, অন্যদিন দেখাব। পরদিন পুনরায় কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি জানান, বৃষ্টিতে ভিজে যেতে পারে, তাই আনতে পারিনি। পরে বিকেলে চায়ের দোকানে দেখানোর কথা বললেও তিনি আর কাগজপত্র উপস্থাপন করেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও নিয়োগ কমিটির প্রতিনিধি নজমুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এখন ব্যস্ত আছি, পরে কথা হবে।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি পলিনের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি আলোকিত বগুড়াকে বলেন, ওগুলো সব পেপারিং করা আছে। আমি বর্তমানে অসুস্থ থাকার কারণে এই মুহূর্তে সব বলতে পারবো না। এ বিষয়ে আপনি প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলেন। তিনটি পদে নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অবগত নন কেন? এক কথায় তিনি জানান, অধ্যক্ষ অবগত করার কথা কেন যে জানাননি। আর আমিও চাই স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সব কিছু হোক। চলতি বছরের জানুয়ারি ১১ তারিখে নিয়োগপত্র দেওয়া হয় যোগদান করেন ১৯ জুলাই এটাতো স্বচ্ছতা হতে পারে না। এ বিষয়ে তিনি বলেন বিগত সরকার নানা অনিয়মের মধ্যে ছিলো তারই ধারাবাহিকতায় চলে আসছে।
এ বিষয়ে সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বীকৃতি প্রামাণিক মুঠোফোনে জানান, এবিষয়ে আমি অবগত না। ওই প্রতিষ্ঠানের আমি সভাপতি না আর আমার দপ্তরে কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। যদি এধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকে তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে অভিযোগ দিলে আমি খতিয়ে দেখবো।
এদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ছয় মাস পর যোগদানের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সুত্র: আলোকিত বগুড়া
Posted ৩:০৬ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
Sangbad Dinrat | Editor & Publisher