
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ছাত্রলীগ কর্মীর পরিবারকে অবর্ণনীয় নির্যাতন, বাড়িঘরে হামলা এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা এবং ভুক্তভোগীর আপন চাচার নেতৃত্বে এই পরিকল্পিত হামলা ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের রূপাই খারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মোঃ হোসেন খানের ছেলে আল-আমিন ২০০৯ সাল থেকে স্থানীয় ছাত্ররাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি তৎকালীন পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ কমিটির একজন সক্রিয় সাধারণ সদস্য ছিলেন। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন আহাদ হোসেন স্বর্ণ এবং অন্যতম সদস্য ছিলেন শেখ জুয়েল রানা, শোয়েব সম্রাট ও মনির হোসেন। ছাত্রলীগে সক্রিয় থাকার কারণে ২০১৯ সালে প্রথম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন আল-আমিন। তৎকালীন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম ফরাজী ও তার লোকজন আল-আমিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ওই হামলায় আল-আমিন মারাত্মকভাবে আহত হন এবং তার একটি আঙুলে ৩-৪টি সেলাই লাগে। ঘটনার পর আল-আমিন থানায় মামলা বা জিডি দায়ের করলেও পরবর্তীতে রফিকুল ইসলাম ফরাজীর আপন চাচা স্থানীয় চেয়ারম্যান থাকায় সামাজিক চাপের মুখে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়া হয়।
গত ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আল-আমিন ও তার পরিবারের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও তীব্র হয়। ৫ই আগস্টের পরপরই ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল আল-আমিনের বাড়িতে হামলা চালায় এবং পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। জীবন রক্ষার্থে তখন আল-আমিনের পরিবার স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর গত ২০শে মার্চ ২০২৬ তারিখে রাজনৈতিক শত্রুতা ও পারিবারিক জমিজমার বিরোধকে কেন্দ্র করে পুনরায় এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে।
আল-আমিনের আপন চাচা এবং ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি হাসান খান এবং পূর্বের শত্রু ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি রফিকুল ইসলাম ফরাজীর যৌথ নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি নেক্সাসী শুল আল-আমিনের বাড়িতে পুনরায় হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাদের একটি বসত ঘর (টিনের ঘর) কুপিয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস ও ড্যামেজ করে দেয়। ঘরে থাকা আল-আমিনের দুই ভাইকে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়। উপর্যুপরি হামলার মুখে প্রাণ বাঁচাতে তার ভাইয়েরা বর্তমানে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
ভুক্তভোগী আল-আমিনের বাবার সাথে তার আপন চাচা হাসান খানের দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি ও জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। আল-আমিন ছাত্রলীগ করার বিষয়টি হাসান খান কখনোই পছন্দ করতেন না। ফলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ফরাজী মিলে আল-আমিনের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন, যার প্রেক্ষিতে বর্তমানে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
মামলার এজাহারে কাল্পনিক অভিযোগ এনে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে বিগত ছাত্র আন্দোলনের সময় আল-আমিন আন্দোলনকারীদের আর্থিক সহায়তা বা ফান্ডিং করেছিলেন-যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি পরিবারের। এই হামলার ঘটনাগুলো ইতোমধ্যেই স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও প্রচারিত হয়েছে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুধু আল-আমিনই নন, এই অঞ্চলে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে মাঠপর্যায়ের ও তৃণমূলের বহু ছোট পদের নেতাকর্মী এবং সাধারণ সমর্থকরা প্রতিনিয়ত গুম, খুন, শারীরিক নির্যাতন এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও উচ্ছেদের শিকার হচ্ছেন। অনেকেই মিথ্যা মামলার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন কিংবা চিরতরে নিখোঁজ হয়ে গেছেন। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল একের পর এক সাধারণ পরিবারকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, যার কোনো সুষ্ঠু বিচার মিলছে না। বর্তমানে একদিকে মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার চাপ, অন্যদিকে চাচা হাসান খান ও বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ফরাজীর ক্রমাগত হুমকি ও উচ্ছেদের চেষ্টায় আল-আমিনের পুরো পরিবার চরম এক মানবিক ও নিরাপত্তা সংকটে দিনাতিপাত করছে।
ভুক্তভোগী পরিবারটি এই পরিকল্পিত হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও মিথ্যা হয়রানি থেকে বাঁচতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
Posted ৭:০৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
Sangbad Dinrat | Editor & Publisher


