
দেশের বিকাশমান পর্যটন শিল্প এগিয়ে নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালার সংস্কার করে নিবন্ধন শুরু করতে বৈষম্য বিরোধী পর্যটন আন্দোলন পরিষদ, বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপ্লোরার্স এসোসিয়েশন (বিটইএ) বাংলাদেশ ট্যুর গাইড এসোসিয়েশন, সম্মিলিত পর্যটন জোটসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন থেকে স্মারকলিপি দেওয়া এবং ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সংবাদ সম্মেলন করার পর বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সিইও জাবের আসস্থ করে বলেছিলেন যে, আপনারা আন্দোলন প্রত্যাহার করেন ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবসের পোগ্রাম করতে দেন পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবের সাথে কথা হয়েছে আমরা সংস্কার করে নিবন্ধন শুরু ঘোষণা দিবো। কিন্তু গত কয়েকমাস নানারকম তালবাহানা বোর্ডের পক্ষে থেকে গন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। যা পর্যটন সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল।
২১ জানুয়ারি গনমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান সম্মিলিত পর্যটন জোটের প্রধান সমন্নয়কারী শহিদুল ইসলাম সাগর।
সম্মিলিত পর্যটন জোট মনে করে, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের এধরনের ব্যবসায়ী কর্মকাণ্ডের সর্বস্তরের ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ। এমতাবস্থায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের এধরনের সিদ্ধান্ত সম্মিলিত পর্যটন জোট ঘৃনার সাথে প্রত্যাখান করছে।
বিগত আওয়ামী সরকারের সাবেক পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী ও সাবেক সিনিয়র সচিব মাহিবুল হকের মদদপুষ্ট ট্যুরিজম বোর্ডের সিইও জাবের যদি সংস্কার প্রস্তাবের বাহিরে গিয়ে নিবন্ধন ঘোষণা স্থগিত না করে তাহলে খুব শীঘ্রই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ওনার অপসারণসহ কালো আইন বাতিলের দাবীতে রাজপথে মানববন্ধন ও ট্যুরিজম বোর্ড ফেরাও এর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
পর্যটনশিল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষার ব্যবস্থা না রেখে যে আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, তা প্রকৃত অর্থে পেশাজীবীদের বিপন্ন করবে। এ ধরনের বাস্তবতা-বিবর্জিত আইন ও বিধির প্রয়োগ নিশ্চিতভাবে পর্যটন-উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করবে এবং ব্যবসায়িক ও পেশাগত অনিশ্চয়তা তৈরি করবে। এখনও পর্যন্ত রুগ্ণ পর্যায়ে থাকা দেশের পর্যটনশিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সারা দেশে কয়েক লাখ পরিবার নির্ভরশীল, অযাচিত আইন ও বিধিমালার কারণে হুমকির মুখে পড়বে তাদের জীবিকা।
সার্বিক পর্যটন-বিমুখতার কারণে এ খাতটি চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পর্যটন-উদ্যোক্তা ও পর্যটন-গাইডের মতো প্রত্যক্ষ পেশাজীবীদের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী-সহ প্রান্তিক কয়েক লাখ পরিবারের জীবিকা ও কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে।
উল্লেখ্য: বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প বিকাশে ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডদের কার্যক্রম পরিচালনা, পর্যটকদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং এ সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ‘বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালনা) আইন, ২০২১’ জাতীয় সংসদে ২০২১ সালে অনুমোদিত হয়। এই আইনের ১৭ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ বছরের ২৮ মার্চ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় ‘বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর (নিবন্ধন ও পরিচালনা) বিধিমালা, ২০২৪’। তারপর থেকে পর্যটন বিভিন্নভাবে সংস্কারের জন্য নানাভাবে মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের এধরনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে।
Posted ১০:৪৫ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৫
Sangbad Dinrat | Editor & Publisher


