
দেড় দশকে বৈষম্যের স্বীকার দুই শতাধিক সামরিক কর্মকর্তা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে সুরাহা চেয়ে আবেদন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কাছে আবেদন জমা দেন তারা।
এর আগে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে সমবেত হয়ে ভুক্তভোগি সামরিক কর্মকর্তারা দাবি করেন, সশস্ত্র বাহিনীর আইনের অপব্যবহারের স্বীকার হয়েছিলেন তারা। অন্যায় আদেশ মেনে অপরাধমূলক কাজ না করায় শাস্তি পেতে হয়েছে তাদের। চাকরি হারিয়ে সামাজিক বঞ্চনার স্বীকার হয়েছিলেন, অনেকে পেনশন পাননি। কারো কারো র্যাঙ্কও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
তারা জানান, একটি স্বার্থান্বেসী মহল প্রতিবেশি রাষ্ট্রকে খুশী রাখতে গিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লিগ গত ১৫ বছর ধরে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিকিকরনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী সমুহ কে দুর্বল ও পদলেহী করে ফেলে। এক্ষেত্রে কতিপয় সুযোগ সন্ধানী ও সুবিধাভোগী অফিসারদের হাত করে নিয়ে তাদের দ্বারা অন্যান্য পেশাদার ও অরাজনৈতিক সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চালানো হয় নজির বিহীন অত্যাচার, অবিচার ও নিপীড়ন।
তারা আরও জানান, বহু সামরিক কর্মকর্তাদের অবৈধভাবে আটকে রেখে চালানো হয় নির্মম নির্যাতন, অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করা হয় শত শত দেশপ্রেমিক অফিসারদের, জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হয় ঈমানদার, সৎ ও প্রতিবাদী অফিসারদের, এমনকি তাদের অনেকেই নিরাপত্তাবাহিনীর হেফাজতে ঠান্ডা মাথায় হত্যার মতো জঘন্য ঘটনার শিকার হয়েছেন।
এ সকল অত্যাচার আর নিপীড়নের উদ্দেশ্য ছিল একটাই আর তা হল সমগ্র সশস্ত্র বাহিনীকে আওয়ামী লিগের পেটোয়া বাহিনীতে পরিণত করা। যে সকল দেশপ্রেমিক পেশাদার অফিসাররা এহেন আওয়ামী করণের বিরোধিতা করেছিলেন তাদের প্রত্যককে গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় চিহ্নিত করে টার্গেট করা হয় এবং সামরিক আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে একে একে তাদের সবাইকে নানাবিধ উছিলায় সামরিক বাহিনী থেকে অপসারন করা হয়। তাদের কাউকে কাউকে হত্যা করা হয়েছিল, অনেকেই আয়নাঘরে বন্দী ছিলেন, কেউ কেউ দেশ ত্যাগে বাধ্য হন, এবং বাকিদের উপর গোয়েন্দা অ পুলিশ বাহিনীর সহায়তায় হয়রানির মাধ্যমে চালানো হয় নিয়মিত মানসিক নির্যাতন, বেসরকারি সংস্থায়ও যেন তারা চাকরি করতে না পারেন, তাও নিশ্চিত করা হয়।
অথচ দেশ রূপান্তরের এই ক্রান্তিলগ্নে এসব নির্যাতিত ও বঞ্চিত অফিসারদের দেশ বিদেশ থেকে আহরিত অভিজ্ঞতা আর দক্ষতা আমাদের দেশ গঠনে খুবই গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত তরুন অফিসারদের পুনরায় সামরিক বাহিনীতে যোগ দেবার সুযোগ দেয়া যেতে পারে। অপেক্ষাকৃত অভিজ্ঞ অফিসারদের নিয়োগ দেয়া যেতে পারে বেসামরিক প্রশাসনের বিভিন্ন পদে। সর্বোপরি, স্বাভাবিক অবসর প্রাপ্যদের স্বাভাবিক অবসর জীবনের জন্য অপরিহার্য সুবিধাদি নিশ্চিত করাও জরুরী। এর মাধ্যমেই নির্যাতিত ও বঞ্চিত অফিসারদের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের যথাযথ নিয়োগের মাধ্যমে দেশ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা সম্ভব।
Posted ১:৩৪ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪
Sangbad Dinrat | Editor & Publisher


