
জনগণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. আব্দুল লতিফ মাসুম।
আজ আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)’র উদ্যোগে চলমান গণইফতার কার্যক্রমের ৯ম দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ৭১এ আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় বসে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নকে ধুলিস্যাত করে লুটপাটে ব্যস্ত হয়ে পরে। জনগণের অধিকার বুঝিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে তারা অধিকার হরনে লিপ্ত হয়। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসেও একই ভাবে জনগণের সকল অধিকার হরণ করা, অর্থ লুট করে বিদেশে পাচার করা সহ দেশকে আওয়ামীলীগ অপকর্মের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিলো। বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন নির্যাতিত হয়ে বারুদে পরিণত হয়েছিলো যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বিস্ফোরিত হয়। ফলশ্রুতিতে হাসিনার মসনদ তছনছ হয়ে যায়। রাজনীতির এই পটপরিবর্তনের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।

পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডাঃ মেজর (অবঃ) আব্দুল ওহাব মিনার এর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গণইফতারে আরও বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা.জাহেদুর রহমান, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের অর্থ সমন্বয়ক দিদারুল ভূঁইয়া, যুব পার্টির সদস্যসচিব হাদিউজ্জামান, এবি পেশাজীবি কাউন্সিলের আহবায়ক ওমর ফারুক, নেত্রকোনার আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মান্নান, গণঅধিকার পরিষদের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম আশরাফ।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ তার বক্তব্যে বলেন, গতবছর আমরা হাসিনা কে দেশ ছাড়াসহ আওয়ামীলীগকে কে খাম্বার সাথে বেঁধে রাখার কথা বলেছিলাম ! কি আমরা কি হাসিনা কে বিতাড়িত করতে পেরেছি? যারা চাঁদাবাজি, লুটতরাজ করছে তাদেরকে মানুষ গ্রহণ করবে না।
জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশের মালিক আপনারা এবং দেশটা কারো বাপের না। এবি পার্টির রাজনীতি মেহনতী মানুষের জন্য, আপনারা যাতে দুইবেলা পেটপুরে খেতে পারেন, রাস্তায় যাতে রাষ্ট্রের কাউকে ঘুমাতে না হয়। ভোটচোরদের প্রশ্ন করবেন আমার বাসস্থান কোথায়?? আমার মৌলিক অধিকার কোথায়?
কোটি কোটি পাচারকৃত টাকা ফেরত চাই, বৃষ্টিতে ভিজে রাস্তায় কেন নাগরিকদের রাত কাটাতে হয়? ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই আমরা গণইফতারের মাধ্যমে ক্ষুদ্র আকারে দেখানোর চেষ্টা করছি আমরা ক্ষমতা গেলে জনকল্যাণমুখী কর্মসূচীর মাধ্যমে নাগরিকের মৌলিক অধিকার পূরণে সচেষ্ট থাকবো।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডা.জাহেদুর রহমান বলেন, হাসিনার মতো কেউ ফ্যাসিস্ট হোক সেটা আমরা চাই না, আমরা আর নতুন কাউকে হাসিনা হতে দিবো না, লুটপাট, চাঁদাবাজি করতে দিবো না। যেই আসুক জনগণের কথায় কাজ করতে হবে, এদিক-সেদিক করলেই হাসিনার মতো টেনে নামানো হবে।
দিদারুল আলম ভূঁইয়া তার বক্তব্যে বলেন, আমরা পলিটিক্সে খারাপ কাজের প্রতিযোগিতা করি কিন্তু করার কথা ছিলো ভালো কাজের প্রতিযোগিতা। নতুন বাংলাদেশে নতুন রাজনীতির বন্দোবস্ত করা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব মিনার চলমান ধর্ষণের ঘটনাকে পাশবিকতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সেনা মোতায়েন স্বত্বেও এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নিরাপত্তা না দিতে পারলে পদ ছাড়ুন, অলংকৃত করার জন্য ঐ পদে আপনাকে বসানে হয়নি। আইনশৃঙ্খলা অবনতির দায় কোনভাবেই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এড়াতে পারেনা। পতিত স্বৈরাচারের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, হাসিনা চ্যাপ্টার ক্লোজড, দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র বাদ দেন।
গণ ইফতার অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, এবিএম খালিদ হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) গাজী নাসির, উত্তরের সদস্য সচিব সেলিম খান, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ ) শাহজাহান ব্যাপারী, শ্যাডো কার্যক্রম বিষয়ক সহ সম্পাদক জাভেদ ইকবাল, স্বেচ্ছাসেবা ও জনকল্যাণ বিষয়ক সহ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসাইন রমিজ, কেফায়েত হোসাইন তানভীর, যুবপার্টির দফতর সম্পাদক আমানুল্লাহ সরকার রাসেল, নারী উন্নয়ন বিষয়ক সহ সম্পাদক শাহিনুর আক্তার শিলা, সহ দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু, শরন চৌধুরী, সহঃ অর্থ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক ও সহঃ প্রচার সম্পাদক রিপন মাহমুদ, আজাদুল ইসলাম আজাদ, পল্টন থানা আহবায়ক আব্দুল কাদের মুন্সি, যাত্রাবাড়ী থানা আহবায়ক আরিফ সুলতানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
Posted ৮:১১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫
Sangbad Dinrat | Editor & Publisher


