
বলেস্বর নদী তীরবর্তী উপকূলীয় মঠবাড়িযার সাপলেজা ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামে স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন ও শুকণো মৌসুমে জোয়া-ভাটার স্রোতের পানি প্রবাহে টেকসই ¯স্লুইজগেট নির্মাণের দাবীতে মানববন্ধন করেছেন ভূক্তভোগী সহস্রাধিক কৃষক।
সোমবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের তাফালবাড়িয়া গ্রামের হলতা নদীর ও তারাখালের সংযোগ বাঁধের(পাউবোর)ওপর এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্টিত হয়।
বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ঘন্টা ব্যাপী এ মানবন্ধন কর্মসূচিতে ৬ গ্রামের ভূক্তভোগী সহস্রাধিক কৃষক অংশ গ্রহন করেন। পরে অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মো. ফারুক আলম এর সভাপতিত্বে এক প্রতিবাদ সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য ও কৃষক রেজাউল আলম, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল মালেক, কৃষক সেলিম সিকদার, মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই ইউনিয়নে হলতা নদীর পাড়ে ১৩৯/ডি পোল্ডারে ১৬ কিলোমিটার বেরী বাঁধ নির্মাণ করে। ওই বাধটি অপরকিল্পিত অপরিকল্পিত হওয়ায় এটি কৃষকদের মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। যাতে ওই ইউনিয়নের তাফালবাড়িয়া, নলীতুলা, নলীজয়নগর, গোলবুনিয়া, ঝাটিবুনিয়া ও চড়কগাছিয়া এ ছয় গ্রামে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও শুষ্কমৌসুমে পানি সঙ্কট দেখা দেয়। অতিসম্প্রতি ভারী বর্ষণে এলাকায় ৫/৬ ফুট পানি বৃদ্ধি পায়।ওই পানি দ্রত অপসারণ না হওয়ায় ২০/২৫দিন ধরে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় সৃষ্টি হয় । যাতে বর্ষা মৌসুমে জলাব্ধতা ও শুকনো মৌসুমে পানির অভাবে ব্যাপক ফসলহানি ঘটে। এছাড়া নব্যতা হরানো তারা খালে স্থানীয় দু’ প্রভাবশালী পরিবারের মাছ চাষ করায় খালটির পানি গ্রামবাসি ব্যবহার করতে পারছেন না।সম্প্রতি এলাকাবাসী হলতা নদী ও তারা খালে টেকসই বাধ চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন করেন।
স্থানীয় তাফালবাড়িয়া গ্রামের ষাটোর্ধ কৃষক সেলিম সিকদার(৫২) জানান, অপরিকল্পিত বাধের কারণে সম্প্রতি বর্ষণের পানি ২০/২৫ আটকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে তার ৪ একর জমির রোপা আমনের সবই পানিতে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। মহাজনের কাছ থেকে ওই জমি একসনা বন্ধক নিয়ে আমন আবাদ ও চারা খরচসহ তার লক্ষাধিক টাকা কর্জ করে খরচ করেছেন।তিনি দ্রত তারা খালে ¯স্লুইজগেট নির্মান না হলে আত্মহত্যার হুমকি দেন। কৃষক আঃ রহমান(৬০) বলেন-১৯৮৫ সালে কৃষকরা ওই বাঁধ অপসারণে দাবি শুরু করে। পরে পাউবো সেখানে পরিকল্পিত স্লুইজগেট নির্মাণের আশ্বাস দিলেও আজও তা কার্যকর হয়নি।
কৃষক আমন (৫৭) বলেন, হলতা নদী ও তারা খালে ¯স্লুইজগেট না থাকায় প্রতি শুকনো মৌসুমে পানির অভাবে মুগ,মশুর কলইসহ রবি ফসল আবাদ করা যাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, তারাখালে বাঁধ দেওয়ার কারনে খালের পানির স্বাভাবিক গতিধারা নষ্ট হচ্ছে। এতে কৃষি রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এ খালটি পরিদর্শন করে সেখানে ¯স্লুইজগেট নির্মাণ করা যায় কিনা সে বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে পাঠানো হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল কাইয়ূম ¯স্লুইজগেট চেয়ে এলাকাবাসীর আবেদন পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন- পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রেরণ করা হয়েছে।
Posted ৫:২৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৪
Sangbad Dinrat | Editor & Publisher


