শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

এম মতিউর রহমান স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি   মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০২৪
এম মতিউর রহমান স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে প্রতারণাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে যেকাউখালী উপজেলার জয়কুল কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।

অধ্যক্ষের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় অনুসন্ধান করলে জানা যায়, বর্তমান নাম এম মতিউর রহমান স্কুল এন্ড কলেজ ২ হাজার সালের যার পূর্ব নাম ছিল জয়কুল আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজ।

এই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ২০১৭ সালে জাল জালিয়াতি করে কাগজপত্র জমা দিয়ে নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের চোখে ধুলো দিয়ে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ লাভ করেন। পরবর্তী সময় বেতন ভাতা করার জন্য কাগজপত্র জমা দিলে তার জাল জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।

যার ফলে দীর্ঘ সাত বছরেও এমপিও ভুক্তহতে করাতে পারেননি। বেতন ভাতা না হওয়ায় তিনি শুরু করেন অনিয়ম ও দুর্নীতি।

অনুসন্ধানের সময় ওই প্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম হোসেন জানান, যে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করার পর থেকে ওই স্কুল এন্ড কলেজে বিভিন্নভাবে তিনি অনিয়ম দুর্নীতির শুরু করেন। তার বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় প্রতিবাদ করলে তিনি সুকৌশলে নতুন কমিটি না করে বেআইনিভাবে কয়েক দফায় এডহক কমিটি গঠন করে তার খেয়াল খুশি মতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং শিক্ষক কর্মচারীদের জিম্মি করে নানা অজুহাতে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন।

সরকারি বিধিবিধানের তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন সভায় ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন, পরীক্ষার ফরম ফিলাপ, প্রবেশপত্র, প্রশংসাপত্র সহ ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন কাজে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে নিজে আত্মসাৎ করেন। প্রতিষ্ঠানের নামে জমাকৃত লক্ষ লক্ষ টাকা নিজ খেয়াল খুশি মত ভুয়া বিল ভাউচার এর মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন বলেও জানান সাবেক সভাপতি সেলিম হোসেন।

এছাড়াও গত ২৬-৬- ২০২৪ তারিখে আর্থিক বরাদ্দ পাওয়ার জন্য কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বজল মোল্লার স্বাক্ষর জাল করে প্রত্যয়ন পত্র দাখিল করলে তা ধরা পড়লে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ১৮ ই আগস্ট তাকে শোকজ করেন।

তার দুর্নীতি অনিয়ম এর ব্যাপারে সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন তালুকদার জানান, অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে মাসের পর মাস স্কুলে উপস্থিত না হয়েও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর প্রদান করেন তিনি। শিক্ষকদের বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বেতন ভাতা বন্ধ করে দেন। তার এই সমস্ত অভিযোগের বিষয় স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষকরা সম্মিলিতভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করলেও আজ পর্যন্ত অভিযোগের তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

অভিযোগকারীরা জানান ,কোন অভিযোগের তদন্ত আসলেই তাদের সাথে সে অর্থের বিনিময়ে আঁতাত করে তদন্ত আঁতুড় ঘরে পাঠিয়ে দেন। অধ্যক্ষের এই সমস্ত অনিয়মের বিষয় কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় সে এখন বেপরোয়া। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ সঠিক নয় পুরোটাই ভিত্তিহীন। স্বার্থন্বেষী মহল তাকে হয়রানি করার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে বিভিন্ন সময় অভিযোগ দিয়ে থাকেন। তিনি কোন স্বাক্ষর জাল করেননি বলেও জানান।

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বজল মোল্লা বলেন, তার স্বাক্ষর জাল করার একটি প্রমাণ পেয়েছেন। কারণ দর্শানোর জন্য অধ্যক্ষ কে শোকাজ করা হয়েছে। এসব এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরো কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে যা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments Box

Posted ৬:৪৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০২৪

Sangbad Dinrat |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 

উপদেষ্টা সম্পাদক
শহিদুল ইসলাম সাগর
চেয়ারম্যান, বিটিইএ

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রকাশক
এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ

বার্তা, ফিচার ও বিজ্ঞাপন:
+৮৮ ০১৩১৩ ৮৮ ৪৪ ৩৩
ইমেইল: sangbaddinrat@gmail.com

বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন কর্তৃক নিবন্ধিত।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদনকৃত।
error: Content is protected !!