
বগুড়া সদরে দেনার চাপ সইতে না পেরে গ্যাস-ট্যাবলেট সেবনে মোরশেদা বেগম (৪০) নামের ২ সন্তানের জননী এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত গৃহবধূ ওই গ্রামের প্রবাসী শাহ জালালের স্ত্রী।
মঙ্গলবার বেলা ১২টায় গোকুল ইউনিয়নের খোলারঘর উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, সিএনজি অটোরিকশা চালক জালাল উদ্দিন। ভালো বেতনে দুবাই পাঠানোর জন্য জালালের স্ত্রী মোরশেদাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখান একই এলাকার প্রতিবেশী গোকুল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোফাজ্জল হোসেন যাদুর পুত্র মামুন। তিনি মোরশেদাকে বলেন, তার সম্বন্ধী দুবাই থাকেন ভালো বেতনে চাকুরি জালাল ভাইকে যদি পাঠান ১ মাসের ভিতরে পাঠাতে পারবো কোন সমস্যা হবে না। মামুনের কথা শুনে দুবাই পাঠালে সংসারে সচ্ছ্বলতা ফিরবে এমন স্বপ্ন দেখেন গৃহবধূ মোরশেদা। এজন্য মোরশেদা স্বামীকে নিয়ে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রামে বাবা- মায়ের বাড়িতে পরামর্শ করতে যান। স্বামীকে বিদেশ পাঠাতে মোরশেদা তার বাবা আব্দুল মান্নানের নিকট ৩ লাখ টাকা কর্জ চান। মেয়ের সুখের কথা ভেবে আব্দুল মান্নান ২লাখ ৯০ হাজার টাকা জামাইয়ের হাতে তুলে দেন ৷ এছাড়া মোরশেদা তার ভগ্নিপতি গাবতলী উপজেলার পীরগাছা এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের নিকট থেকে ৯০ হাজার টাকা কর্জ করেন। এসব টাকা দেনা করে বিদেশ যাওয়ার জন্য আদম ব্যাপারী মামুনের হাতে ৩লাখ ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন মোরশেদা বেগম ও স্বামী জালাল উদ্দিন। ১ মাসের প্রতিশ্রুতিতে বিদেশ পাঠানোর কথা থাকলেও টাকা নিয়ে ১ বছর ধরে বিদেশ না পাঠিয়ে কালক্ষেপ করেন মামুন। একপর্যায়ে বিদেশ পাঠালেও প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সেই চাকুরি হয় না জালালের। বিদেশ গিয়ে এক রকম গৃহবন্দী জীবন যাপন করেন জালাল।
তখন জালালের স্ত্রী মামুনকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, বিদেশ পাঠানোর কথা পাঠিয়েছি পরবর্তীতে বিদেশে গিয়ে কি ঘটবে সেই দ্বায়ভার তো আমার না। এরপর জালাল উদ্দিন বিদেশে কোন কাজকর্ম না পেয়ে শুধু জীবনটা নিয়ে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে জালাল উদ্দিন ও তার স্ত্রী মামুনের কাছে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে মামুন বিভিন্ন তালবাহানা করেন। টাকা চাইলে তাদের বিভিন্ন হুমকি ধামকিও দেয় বলে নিহতের স্বামী জালাল উদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানান। এদিকে বাবার বাড়ির কর্জের ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা ও বোন জামাইয়ের কাছ থেকে কর্জের ৯০ হাজার টাকা ফেরত দিতে তারা মোরশেদা ও জালাল উদ্দিন কে বার বার বলেন। ৩ মাস হলো স্বামী দেশে ফিরেছেন তিনি এখন বেকার প্রায়। টাকার জন্য বাবা মা ও বোন জামাইয়ের সাথেও চলছে সম্পর্কের অবনতি। এমন দুঃচিন্তায় চরম হতাশগ্রস্ত হয়ে পড়েন গৃহবধূ মোরশেদা। অবশেষে কোন উপায় অন্তর না পেয়ে গৃহবধূ মোরশেদা বিষাক্ত গ্যাস-ট্যাবলেট খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় প্রতিবেশীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। সেখানে বিকাল ৩টায় গৃহবধূ মোরশেদার মৃত্যু হয়। নিহত মোরশেদার ১ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে। এ-বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি গ্রহণ চলছে।
এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইহান উল্লাহ বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন মামলা দায়ের করা হয়নি। মরদেহ শজিমেক হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এ বিষয়ে একটি (ইউডি) মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
Posted ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪
Sangbad Dinrat | Editor & Publisher


