নোয়াখালীর হাতিয়ায় অবৈধ অস্ত্রের বেচাকেনার তথ্য পুলিশকে দেওয়ার পর আবদুর রহমান নামের এক যুবককে হুমকি ও হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।
অস্ত্রসংক্রান্ত তথ্য পুলিশকে দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর একটি চক্র তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
আবদুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে একটি সেতুর নিচে কয়েকজনকে সন্দেহজনক অবস্থায় দেখতে পান। তাঁদের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগে অবৈধ অস্ত্র থাকতে পারে—এমন সন্দেহ হলে তিনি বিষয়টি স্থানীয় পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা মোটরসাইকেলে করে পালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ ধাওয়া করে চরচাঙ্গা এলাকার মাইজছড়া বাজার হতে তিনজনকে আটক করে এবং তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে। এ ঘটনা খুব দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
আবদুর রহমান অভিযোগ করেন, সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরালের পর পুলিশকে তথ্য দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা তাঁকে লক্ষ্য করে হুমকি ও হয়রানি শুরু করেন। তিনি স্থানীয় পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের বিষয়টি জানিয়ে নিরাপত্তা চাইলেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি।
এছাড়া গত রোববার (১০ মার্চ) আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম এবং স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মিস্তুর সহযোগিতায় মামলার আসামিরা জামিনে কারাগার থেকে বের হন। জামিনে বের হওয়ার পর আসামিরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে অপহরণ, পাচার বা হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আবদুর রহমান বলেন, ‘অবৈধ অস্ত্রের বিষয়টি পুলিশকে জানানোই এখন আমার জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চাই।’
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান শিকদার বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
Posted ৮:০৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১২ মার্চ ২০১৯
Sangbad Dinrat | Editor & Publisher