
আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি)-এর সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, বিজয়ের ৫৪ বছর পরেও ইতিহাস নিয়ে চেতনার ব্যবসা হয়েছে। যে সরকারই এসেছে, তারা নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অপব্যবহার করেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, আজও জাতি একটি নির্ভুল শহীদ তালিকা পায়নি। ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক হতে পারে, কিন্তু চেতনা নিয়ে ব্যবসা চলতে পারে না। তাই চেতনার ঊর্ধ্বে উঠে নিরেট জায়গা থেকে ১৯৭১-কে ধারণ করতে হবে।
আজ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল ইনসাফ, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার সংগ্রাম। কিন্তু বিজয়ের এত বছর পরেও সেই ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে ক্ষমতা কুক্ষিগত করা হয়েছে, গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার বারবার হরণ করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কোনো দল বা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়। এর প্রকৃত অর্থ হলো,আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের অবসান এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়া।
বিজয় দিবসে এবি পার্টির অঙ্গীকার তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে নির্বাচন হবে অবাধ ও সুষ্ঠু, মতের ভিন্নতায় কেউ নির্যাতিত হবে না এবং তরুণ সমাজ তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে। বিজয় দিবস শুধু অতীত স্মরণের নয়, ভবিষ্যৎ নির্মাণের শপথের দিন। ভয় ও মিথ্যার রাজনীতি পরিহার করে তরুণদের সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের আচরণে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো নিশ্চয়তা নেই। এখনো সময় আছে, প্রধান উপদেষ্টার উচিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা। এই কমিশন দিয়ে অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ওহাব মিনার, ভাইস চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) হেলাল উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুল, ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, আলতাফ হোসাইনসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ।
Posted ৮:১১ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
Sangbad Dinrat | Editor & Publisher


