সোমবার ২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা: নিষেধ নয়, চাই সুশৃঙ্খল রূপান্তর

মো: তৈয়ব আলী খান   বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা: নিষেধ নয়, চাই সুশৃঙ্খল রূপান্তর

বাংলাদেশের শহর ও গ্রামাঞ্চলে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও অনুরূপ যান এখন বহু মানুষের জীবিকা ও দৈনন্দিন যাতায়াতের সঙ্গে যুক্ত। নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এসব যান অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক স্বল্প ব্যয়ে চলাচলের সুযোগ তৈরি করেছে এবং অসংখ্য পরিবারের কর্মসংস্থানের পথ খুলে দিয়েছে। তাই এই পরিবহনব্যবস্থাকে শুধু একটি ‘সমস্যা’ হিসেবে দেখলে বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক অদৃশ্য থেকে যায়।

তবে অন্যদিকে এসব যান ও সংশ্লিষ্ট চার্জিং ব্যবস্থার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, অনুমোদিত সংযোগের বাইরে বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগ, বিদ্যুৎ অপচয়, সড়কে বিশৃঙ্খলা, যানজট, দুর্ঘটনার ঝুঁকি, যাত্রী ও চালকের নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণির বৈধ পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে ন্যায্য প্রতিযোগিতার প্রশ্নও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

অতএব, প্রশ্নটি শুধু—“ব্যাটারিচালিত অটো বন্ধ করা হবে কি না?”
বরং প্রকৃত প্রশ্ন হওয়া উচিত—কীভাবে এই খাতকে আইনসম্মত, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মানবিক কাঠামোর মধ্যে এনে চালকদের জীবিকা এবং নাগরিকদের অধিকার—দুটিই রক্ষা করা যায়?

বিদ্যুৎ ব্যবহার হোক বৈধ ও জবাবদিহিমূলক
ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার নিজে কোনো অপরাধ নয়। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি প্রচলিত আইন ও অনুমোদনের বাইরে বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণ করে, মিটার বা সংযোগ ব্যবস্থায় কারসাজি করে, কিংবা বেআইনিভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে—তাহলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের আওতায় পড়তে পারে।

বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮-এ বিদ্যুৎ চুরি এবং নির্দিষ্ট ধরনের অবৈধ পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ ব্যবহার বা অপচয়ের বিষয়ে দণ্ডের বিধান রয়েছে। তাই ব্যাটারি চার্জিং ব্যবস্থাকে বৈধ সংযোগ, যথাযথ মিটার, প্রযোজ্য ট্যারিফ ও নিরাপত্তা মানের আওতায় আনা জরুরি।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া দরকার—কোনো অভিযোগ বা অনিয়মের ভিত্তিতে পুরো অটোরিকশা চালক সমাজকে বিদ্যুৎ চুরির সঙ্গে যুক্ত করা ন্যায়সংগত নয়।

অপরাধ বা অনিয়ম যেখানে প্রমাণিত হবে, ব্যবস্থা সেখানেই হওয়া উচিত।

নাগরিকের নিরাপদ চলাচলের অধিকার
একটি শহরের রাস্তা সবার। পথচারী, বাস, রিকশা, অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার যান—প্রত্যেকেরই নিরাপদে চলাচলের অধিকার রয়েছে।

কোনো যান যদি—
• ভুল বা ঝুঁকিপূর্ণ পথে চলাচল করে,
• যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করায়,
• গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যানজট সৃষ্টি করে,
• অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে,
• প্রশিক্ষণ বা প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ঘাটতি নিয়ে পরিচালিত হয়,
• অথবা নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের মাধ্যমে অন্যদের ঝুঁকিতে ফেলে,

তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

তবে এখানে আবারও সতর্ক থাকা জরুরি—সব ব্যাটারিচালিত যান বা সব চালক একই ধরনের অনিয়মে যুক্ত—এমন সাধারণীকরণ করা উচিত নয়।

প্রতিটি যান, চালক ও রুটের বাস্তব অবস্থা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়াই ন্যায়সংগত পদ্ধতি।

বৈধ পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে ন্যায্য প্রতিযোগিতা
যেসব পরিবহন আইনানুগভাবে নিবন্ধন, অনুমোদন, কর, ফি, ফিটনেস বা অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করে পরিচালিত হচ্ছে, তাদের জন্য একটি সমতাভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

অন্যদিকে কোনো যান যদি প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা প্রযোজ্য আইনগত শর্ত পূরণ না করে পরিচালিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত সেটিকে আইনের আওতায় আনা—অযথা হয়রানি করা নয়।

আইনের শাসনের মূলনীতি হওয়া উচিত—বৈধ পরিবহনকে সুরক্ষা এবং অনিয়মকে সংশোধন। চালকের স্বাস্থ্য ও মর্যাদাও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা প্রায়ই যাত্রীর নিরাপত্তার কথা বলি; কিন্তু চালকের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম আলোচনা করি।

দীর্ঘ সময় রাস্তায় বসে থাকা, অতিরিক্ত গরম, বৃষ্টি, ধুলাবালি, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, অনিয়মিত খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে গাড়ি চালানো—এসব চালকের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

একজন চালক কেবল একটি যান চালান না; তাঁর আয়ের ওপর একটি পরিবার নির্ভর করে। তাই তাকে শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় হিসেবে না দেখে একজন শ্রমজীবী মানুষ, একজন পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য এবং একজন নাগরিক হিসেবে দেখতে হবে।

ইসলামের দৃষ্টিতে—জীবিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, অন্যের অধিকারও তেমনই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম হালাল উপার্জনকে সম্মান করে। তাই কোনো মানুষের বৈধ জীবিকার পথ অযথা বন্ধ করে দেওয়া ইসলামের মানবিক চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অন্যদিকে ইসলাম অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করা, অন্যায়ভাবে সম্পদ ব্যবহার করা, অপচয় করা কিংবা মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হওয়াকেও সমর্থন করে না।

আল্লাহ তা’আলা বলেন—

«“সৎকর্ম ও তাকওয়ায় একে অপরকে সহযোগিতা করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরকে সহযোগিতা করো না।”
—সূরা আল-মায়িদাহ, ৫:২»

আরও বলেন—

«“তোমরা অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন।”
—সূরা আল-আ‘রাফ, ৭:৩১»

অতএব, হালাল জীবিকার অধিকার যেমন রক্ষা করতে হবে, তেমনি অন্যের অধিকার, জাতীয় সম্পদ, জননিরাপত্তা ও পরিবেশের প্রতিও দায়িত্বশীল হতে হবে।

তাহলে সমাধান কী?
সমাধান হওয়া উচিত না হঠাৎ করে সবাইকে উচ্ছেদ করা, আবার না অনিয়ন্ত্রিত অবস্থাকে মেনে নেওয়া। প্রয়োজন পর্যায়ক্রমিক ও মানবিক পুনর্গঠন।

1. আগে তথ্যভিত্তিক নিবন্ধন ও গণনা

প্রথমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বাস্তব সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে। কোথায় কত যান, কত চালক, কোন ধরনের যান, কোন রুটে চলে এবং কোথায় চার্জ হয়—এসব তথ্যের একটি সমন্বিত ডাটাবেস তৈরি করা যেতে পারে।

2. বৈধ ও নিরাপদ চার্জিং ব্যবস্থা

নির্ধারিত এলাকায় বৈধ চার্জিং স্টেশন গড়ে তোলা যেতে পারে। সেখানে থাকবে—
• বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ,
• উপযুক্ত মিটার,
• প্রযোজ্য ট্যারিফ,
• বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা,
• অগ্নিনিরাপত্তা,
• ব্যাটারি সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। এতে একদিকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আসবে, অন্যদিকে চালকদেরও বৈধ চার্জিং সুবিধা পাওয়া সহজ হবে।

3. রুটভিত্তিক চলাচল
প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট রুট ও সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে। বিশেষ করে বড় সড়কে সরাসরি প্রতিযোগিতা না করে আবাসিক এলাকা থেকে বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন বা গণপরিবহন কেন্দ্র পর্যন্ত ফিডার সার্ভিস হিসেবে এসব যানকে কাজে লাগানো সম্ভব।

4. চালকদের প্রশিক্ষণ

প্রশিক্ষণের আওতায় আনা যেতে পারে—

• ট্রাফিক ও সড়ক নিরাপত্তা,
• নিরাপদ চালনা,
• যাত্রীসেবা,
• প্রাথমিক চিকিৎসা,
• অগ্নিনিরাপত্তা,
• ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা,
• পরিবেশ সচেতনতা,
• দায়িত্বশীলতা ও নৈতিকতা।

5. ঝুঁকিপূর্ণ যান পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার

সব যান একসঙ্গে বন্ধ না করে প্রথমে সবচেয়ে পুরোনো, ত্রুটিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ যান শনাক্ত করা যেতে পারে।

পর্যায়ক্রমে সেগুলো নিরাপদ ও পরিবেশসম্মত যান দিয়ে প্রতিস্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে।

6. চালকদের পুনর্বাসন

যাদের নতুন নীতির কারণে নির্দিষ্ট রুটে চলাচলের সুযোগ কমে যাবে, তাদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা মানবিক হবে না।

তাদের জন্য বিবেচনা করা যেতে পারে—

• বৈধ চার্জিং স্টেশনে কর্মসংস্থান,
• অনুমোদিত গণপরিবহনে প্রশিক্ষণ,
• ডেলিভারি ও লজিস্টিকস,
• ইলেকট্রিক যান মেরামতের প্রশিক্ষণ,
• ব্যাটারি সার্ভিসিং,
• ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য সহজ শর্তের অর্থায়ন,
• অন্যান্য কারিগরি প্রশিক্ষণ।

চালককে বেকার করে আইন প্রয়োগ নয়; দক্ষ করে আইনসম্মত জীবিকার পথে নিয়ে আসাই হতে পারে টেকসই সমাধান।

আমাদের প্রস্তাব: “নিষেধ নয়, নিয়ন্ত্রিত রূপান্তর”

আমরা চাই—

1. বিদ্যুৎ ব্যবহারে আইন ও অনুমোদনের যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত হোক।
2. বৈধ ও নিরাপদ চার্জিং অবকাঠামো গড়ে উঠুক।
3. সংশ্লিষ্ট যান ও চালকদের প্রযোজ্য আইন ও বিধির আওতায় আনা হোক।
4. ঝুঁকিপূর্ণ যান পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা হোক।
5. প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট রুট ও সময় নির্ধারণ করা হোক।
6. যানজট ও সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি কঠোরভাবে বিবেচনা করা হোক।
7. যাত্রী ও চালক—উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
8. আইনানুগভাবে পরিচালিত পরিবহন মালিকদের জন্য ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।
9. চালকদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন ছাড়া আকস্মিক উচ্ছেদ এড়িয়ে চলা হোক।
10. সরকার, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, বিআরটিএ, বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ এবং চালক-মালিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদি নীতি প্রণয়ন করা হোক।

শেষ কথা: একজন চালকের ঘামে একটি পরিবার চলে। সেই ঘামকে অসম্মান করা যাবে না।

আবার একজন যাত্রীর জীবনও মূল্যবান। একজন পথচারীর নিরাপত্তাও মূল্যবান। একজন অ্যাম্বুলেন্সের রোগীর জীবনও মূল্যবান। জাতীয় বিদ্যুৎ সম্পদও মূল্যবান। আইনানুগভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী পরিবহন মালিকের অধিকারও মূল্যবান।

তাই আমাদের নীতি হওয়া উচিত—চালকের জীবিকা রক্ষা করব, কিন্তু অনিয়মকে প্রশ্রয় দেব না। যাত্রীর সেবা নিশ্চিত করব, কিন্তু নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করব না। বিদ্যুৎ ব্যবহার করব, কিন্তু অবৈধ ব্যবহার বা অপচয়কে উৎসাহিত করব না।

পরিবহনব্যবস্থা পরিচালনা করব, কিন্তু অন্য নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন করে নয়।

বাংলাদেশের উন্নয়ন শুধু নতুন রাস্তা নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সেই রাস্তার প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা, জীবিকা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হয়।

সুতরাং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে আমাদের নীতি হোক—“নিষেধ নয়, বিশৃঙ্খলাও নয়—চাই আইনসম্মত, নিরাপদ ও মানবিক রূপান্তর।”

মোঃ তৈয়ব আলী খান
লেখক ও বিশ্লেষক

Facebook Comments Box

Posted ২:১৩ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Sangbad Dinrat |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 ১২৩৪৫
৭৮৯১০১১১১৩
৪১৫১৬১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৯৩০  

উপদেষ্টা
শহিদুল ইসলাম সাগর
চেয়ারম্যান, বিটিইএ

প্রতিষ্ঠাতা
মাহমুদ স্বপন

বার্তা, ফিচার ও বিজ্ঞাপন:
+৮৮ ০১৩১৩ ৮৮ ৪৪ ৩৩
ইমেইল: sangbaddinrat@gmail.com

বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন কর্তৃক নিবন্ধিত।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদনকৃত।