শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

পাঠ্যবই পরিমার্জন করছে এনসিটিবি, ফিরছে প্রকৃত ইতিহাস

বাসস   শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
পাঠ্যবই পরিমার্জন করছে এনসিটিবি, ফিরছে প্রকৃত ইতিহাস

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এনসিটিবি’র চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বিচ্যুতি ও একপেশে ইতিহাস সংশোধন করে পাঠ্যবইয়ে প্রকৃত সত্য তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী একটি যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম চালুর অংশ হিসেবে বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে এই পরিমার্জন কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। যেখানে মুক্তিযুদ্ধে সকল বীর নায়কদের অবদান সঠিকভাবে স্থান পাবে এবং ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বিস্তারিত ইতিহাস যুক্ত করা হবে।

পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৯৭টি এবং প্রাথমিকের ৩৬টি বই নিয়ে দেশের প্রায় ৩২০ জন বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন। এই বিশেষজ্ঞ দলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষকরা রয়েছেন।

চেয়ারম্যান জানান, গত ৪ থেকে ৭ মে পর্যন্ত বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে এই লক্ষ্যে একটি নিবিড় আবাসিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজি ভার্সনসহ মোট ৬০১টি পাঠ্যপুস্তকের পরিমার্জন কাজ শেষ করে মুদ্রণের প্রস্তুতি নেওয়া হবে, যাতে ২০২৭ সালের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা নির্ভুল বই হাতে পায়।

শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ এবং পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে তিনটি নতুন বৈচিত্র্যময় বই যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘খেলাধুলা ও সংস্কৃতি’ বিষয়ক একটি বই প্রণয়ন করা হচ্ছে, যা শিশুদের ডিজিটাল আসক্তি কমিয়ে শারীরিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করবে।

এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ এবং কারিগরি শিক্ষার ওপর একটি উদ্দীপনামূলক বই যুক্ত করা হচ্ছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটি বইয়ের আমূল পরিবর্তন এনে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।

মাহবুবুল হক পাটওয়ারী আরও জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষার্থী-বান্ধব ‘অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা’ দর্শনের ওপর ভিত্তি করে নতুন কারিকুলাম নিয়ে কাজ করছে। এতে বইয়ের সংখ্যা কমিয়ে ব্যবহারিক শিক্ষার পরিধি বাড়ানো হবে। ২০২৭ সালে পরিমার্জিত বই দিলেও ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন কারিকুলাম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে এনসিটিবি’র।

২০১২ সালের কারিকুলাম অনুসরণ করে বর্তমানে কাজ চললেও এনসিটিবি চেয়ারম্যান অভিভাবকদের আশ্বস্ত করেছেন, শিক্ষার্থীরা যখন আনন্দের সঙ্গে শিখতে শুরু করবে তখন শিক্ষাব্যবস্থার এই পরিবর্তন সকলের কাছেই গ্রহণযোগ্য হবে। ২০২৭ সালের পহেলা জানুয়ারিতেই বিচ্যুতিমুক্ত ও আধুনিক পাঠ্যপুস্তক বিতরণের লক্ষ্য নিয়ে দ্রুত কাজ চলছে।

Facebook Comments Box

Posted ৩:২৮ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

Sangbad Dinrat |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০ 

উপদেষ্টা সম্পাদক
শহিদুল ইসলাম সাগর
চেয়ারম্যান, বিটিইএ

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রকাশক
এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ

বার্তা, ফিচার ও বিজ্ঞাপন:
+৮৮ ০১৩১৩ ৮৮ ৪৪ ৩৩
ইমেইল: sangbaddinrat@gmail.com

বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন কর্তৃক নিবন্ধিত।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদনকৃত।
error: Content is protected !!